করোনা মহামারিতে দেশে মোবাইল গ্রাহক আগের তুলনায় অনেক অংশে কমেছে

0
1523

বিশ্ব জুড়ে এই মহামারিতে  দেশে মোবাইল ফোন সেবার গ্রাহক গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় অনেক কমছে। এপ্রিল মাস শেষে দেশে মোবাইল গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ২৯ লাখ কিন্তু তা ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় ৩২ লাখ কম।

মোবাইল গ্রাহক এর পাশাপাশি কমেছে ইন্টারনেট গ্রাহকও ।গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় এপ্রিল শেষে ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে প্রায় ২১ লাখ। যাঁরা মূলত মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন।

দেশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোবাইল গ্রাহক অনেকটাই বাড়তি ছিল। এরপর থেকে কমতে শুরু করে।জানা গিয়েছে কোনো একটি অপারেটরের নয়, কমে গিয়েছে সব অপারেটরের গ্রাহক।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) জানান- ৯০ দিনের মধ্যে কোনো সিমে কথা বলা, খুদে বার্তা পাঠানো বা ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই তাকে সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়। একজন গ্রাহকের একাধিক সিমও থাকতে পারে।

বিটিআরসির হিসাবে, এপ্রিল শেষে গ্রামীণফোনের গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪৩ লাখ ৬১ হাজার, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১৫ লাখের মতো কম। এপ্রিল শেষে রবি আজিয়াটার গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৪৩ হাজার, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৭ লাখ ৬৮ হাজার কম।

গ্রামীণফোনের মতো বাংলালিংকের গ্রাহকসংখ্যাও কমেছে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ।বর্ত্মানে ৩ কোটি ৪৯ লাখের মতো। সরকার মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটকের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ৪৮ লাখ ৪০ হাজার, কিন্তু  তা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৩৩ হাজার কম। মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক যখন কমছে, তখন বাজেটে মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক আরও ৫ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকার।

যার ফলে মোবাইলে কথা বলা ও খুদে বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে করভার দাঁড়িয়েছে ৩৩ শতাংশের বেশি এবং ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে করভার দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

এর মানে হলো, এখন থেকে ১০০ টাকা রিচার্জে কথা বলা ও খুদে বার্তায় সরকারের কাছে যাবে ২৫ টাকার মতো, যা আগের তুলনায় ৩ টাকা বেশি। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকার পাবে ১৮ টাকার মতো।

অপারেটরেরা বলছে, নতুন করে কর আরোপের ফলে মানুষ মোবাইলে ব্যয় কমিয়ে দিতে পারে। কারণ, এখন করোনার কারণে মানুষের আয় আগের তুলিনায় অনেকটাই কম। অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটার্স অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) মহাসচিব এস এম ফরহাদ গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দেশের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ মানুষের কাছে স্মার্টফোন নেই। তাঁরাই মূলত বেশি চাপে পড়বেন। করোনা পরিস্থিতিতে তাঁদের বেশির ভাগের পক্ষে ব্যবহার কমিয়ে খরচ কমানো ছাড়া উপায় থাকবে না।

দেশে মোট ইন্টারনেট গ্রাহকও কমেছে। ফেব্রুয়ারি শেষে মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড সেবার মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল প্রায় ৯ কোটি ৯৯ লাখ ৮৪ হাজার।কিন্তু এ সংখ্যা মার্চ শেষে  বেড়ে গিয়ে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৫৩ হাজারে উন্নীত হয়।আবার  এপ্রিল এর শেষে তা কমে হয়েছে ১০ কোটি ১১ লাখ ৮৬ হাজার।

গত এক মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক কমেছে ২০ লাখ ৬৬ হাজার। এই সময়ে যাঁরা ইন্টারনেট ব্যবহার ছেড়েছেন, তাঁরা মূলত মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক। কারণ, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকসংখ্যায় কোনো হেরফের হয়নি।

রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম জানান, নতুন করে কর বাড়ানোর ফলে সীমিত আয়ের বেশির ভাগ গ্রাহক ব্যবহার কমিয়ে বাড়তি ব্যয় সমন্বয় করবেন। গ্রাহকসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সাহেদ আলম বলেন, ‘নতুন করকাঠামো কার্যকর করার পর গত ১২ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত আমাদের রাজস্ব ৩ শতাংশ কমে গেছে।’