করোনা কেন আমাদের করুণা করছে না?

0
4276
করোনা কেন আমাদের করুণা করছে না?

এমদাদুল হক (মানিক)
এম.এস.সি (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)

পুরো বিশ্ব আজ থমথমে স্তম্ভির হয়ে আছে। ক্রমশই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে করোনা ভাইরাস চারদিকে কেবল মৃত্যুর মিছিল আর করুন আর্তনাদ। কোথাও স্পর্শ করা কিংবা ঘরের বাহিরে পা দিলেই যেন মরণ থাবা বসে যায়। সেই সাথে ক্ষুধা নিবারণের যন্ত্রনা তো আছেই। এখন প্রশ্ন একটাই কবে মিলবে এর সুহারা?

জটিল এই প্রশ্নের উত্তর যদিও এখনো কেউ দিতে পারেনি। পারত পক্ষে, অনেকেই বলে যাচ্ছে আগত দিন গুলোতে (COVID -19) কে সঙ্গী করেই বেঁচে থাকতে হবে আমাদের। এ যেন এক জটিল সমীকরণ যার সমাধান আপেক্ষিক।

বিবিসির (BBC) খবর অনুযায়ী গোটা বিশ্বকেই অদৃশ্য এই শত্রুর সাথে রীতিমত যুদ্ধ করেই বাঁচা শিখতে হবে বলে তথ্য দিয়েছেন WHO (World Health Organization)।

করোনার সংক্রামক ঠেকাতে বিশ্বের সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশই লকডাউন পন্থা অবলম্বন করছে।

সেই সাথে বাংলাদেশ ও হাটছেন লকডাউন নীতিতে। আবার ও প্রশ্ন বাংলাদেশের দেশে এই লকডাউন নীতি কতখানি ফলপ্রসু?

এবার একটি অনুগল্প বলা যাক,
গত মাসের শুরুর দিকে এক পরিচিত বৃদ্ধা চাচাকে মৃদু হাসি দিয়ে বললাম চাচা মাস্ক কোথায়? সম্ভবত, তিনি কিছুটা ক্ষিপ্ত হয়েই বললেন মাস্ক কি আমাকে মৃত্যু থেকে বাঁচাবে? আল্লাহ মালিক, আল্লাহই রক্ষা করবেন।

হুম! প্রহসনের সাথে বললাম তবে চলুন আগুণে ঝাপ দেই। যে দেশে এমন গৌড়ামী থাকতে পারে সে দেশে গৃহীত পদক্ষেপ গুলো কতখানি কার্যকরী।

করোনা থেকে বাঁচতে গৃহীত কার্যকরী পদক্ষেপ তিনটি
১. মাস্ক পরিধান করা
২. নিরাপদ সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা।
৩. বেশি লোক একত্রে লম্বা সময় কথা না বলা।

এই তিনের কোনটিতে আমরা স্বাচ্ছন্দবোধ করিনা। বরং হরহামেশাই নীতি ভঙ্গ করেই চলেছি। এ যেন মৃত্যু নিয়ে তামাশা!

এবার একটি পরিসংখ্যান নিয়ে কথা বলা যাক ২০১৯ সালের ডিসেম্বরই প্রথম চিনের উহান থেকে (COVID – 19) অর্থাৎ করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর আনাচে কানাচে।প্রায় ৪.২ মিলিয়ন মানুষ সারা পৃথিবীতে (COVID – 19) এ আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যা ও একেবারে নিছক কম নয়। প্রায় ৩০০,০০০ মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে এতো গেল বিশ্বের জরিপ।

এবার আসা যাক বাংলাদেশের করোনা জরিপ
এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট সংক্রামণের সংখ্যা ১৪১৮০১ এবং মৃত্যুর সংখ্যা ১.২৬ শতাংশ। এটিই সর্বপ্রথম একটি সর্বজনীন সংক্রমণ ব্যাধি যেটি কিনা ধর্ম, বর্ন, জাতি এবং গোষ্টি সকল শ্রেনীর মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। প্রকৃতির এই অমোঘ সত্য কে আমরা চাইলেই ক্ষণিকের মধ্যে নিধন করা সম্ভব নয়, যেখানে তাবড় তাবড় দেশ গুলো হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে কেবল রেড, ব্লু, ইউলো জোন চিহ্নিত করে ভাইরাস সংক্রামক ঠেকানো যাবে না বরং প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি নির্দেশক “মাইকেল রায়ানের” মতে
” এই প্রথমবার একেবারে নতুন একটি ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করেছে ”

খোদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যেখানে নিরাশার বাণী দিচ্ছেন সেখানে আমাদের অবলম্বন কোথায়? এমনকি ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলেও করোনা থেকে করুণা পাওয়ার কথা ভাবতে পারছেনা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর বিশেষজ্ঞরা। আপনাদের মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন যে, হামের ভ্যাকসিন আবিষ্কার হবার পরও যেমন হাম চিরতরে বিদায় নেয়নি, ঠিক তেমনি করোনা ভাইরাসও চিরতরে বিদায় নেবে না।

তাহলে কি আমরা মরে যাব?

সাধারণ ভাবে উত্তর হল না।

বরং আমাদের সৃষ্টিকর্তাই জানেন তবে আমাদের অনেক বাস্তববাদী হতে হবে। সেই সাথে বদলাতে হবে আমাদের পরিবেশ। কেননা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ আমাদেরকে কিছুটা হলেও COVID – 19 কে প্রতিহত করবে। উল্লেখ্য যে, থুথু দিয়ে টাকা গুনার মতো বাজে অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে হবে আর মনে রাখতে হবে পরিষ্কার পরিছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। তবেই হয়তোবা করোনা থেকে করুণা পাবে বাংলাদেশ।