ঝিনাইগাতী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি, জাল সনদে অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজনকে নিয়োগ

0
606
ঝিনাইগাতী মহিলা কলেজ অধ্যক্ষের সীমাহীন দুর্নীতি, জাল সনদে অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজনকে নিয়োগ

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি ঃশেরপুরের ঝিনাইগাতী মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে সীমাহীন জাল-জালিয়াতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তার ওইসব দুর্নীতির কারণে দীর্ঘদিন স্ব-স্ব পদে এককভাবে নিয়মিত কর্মরত থেকেও এমপিও থেকে বাদ পড়ছেন ৩ জন নিয়মিত শিক্ষক। অন্যদিকে ওই দুর্নীতির কারণে কলেজে একদিন ক্লাস না নিয়েও অচেনা ও অন্যত্র চাকরিজীবী শিক্ষকরা তুলছেন বেতন। নিবন্ধনসহ জাল সনদে চাকুরিতে প্রবেশ করা অধ্যক্ষের স্ত্রীসহ কয়েকজন শিক্ষকও অবৈধভাবে ভোগ করছেন একই সুবিধা। অভিযোগ ওঠেছে, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান গভর্নিং বডির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিকে অন্ধকারে রেখে ওইসব দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। সম্প্রতি অধ্যক্ষ সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে এ্যাডহক কমিটিকেও উল্টেপাল্টে গঠন করেছেন গভর্নিং কমিটি, যাতে রয়েছেন অধ্যক্ষের স্ত্রী, ভগ্নিপতি, ভাগনে ও বেয়াইসহ নিকট আত্মীয়রাই। অধ্যক্ষের ওই সীমাহীন দুর্নীতি নিয়ে এলাকায় এখন ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এ বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন সরকারদলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ স্থানীয় সচেতন মহল। অন্যদিকে ওই ঘটনায় ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পরিচালক এবং শেরপুরের জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জানা যায়, নারী শিক্ষার প্রসারে ২০০২ সালে এ উপজেলায় প্রতিষ্ঠিত হয় মহিলা আদর্শ ডিগ্রি কলেজ। ২০০৪ সাল থেকে ইংরেজি শিক্ষক রফিকুল ইসলাম ২০১০ সাল পর্যন্ত বিনাবেতনে চাকরি করেন। পরে আর তাকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। ২০১২ সালে কলেজটি ডিগ্রি শাখা খোলার অনুমতি লাভ করে। এসময় ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন উপজেলার খৈলকুড়া এলাকার পি.আর মুহাম্মদ রাহুল। তিনি ডিগ্রি শাখায় ইংরেজী বিভাগে প্রভাষক হিসাবে এমপিওবিহীন চাকুরী করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিওভুক্ত হলে প্রভাষক পি.আর মুহাম্মদ রাহুলকে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান তার কাছে ১৫ লাখ টাকা দাবি করেন। কিন্তু বৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে বিনাবেতনে দীর্ঘ ৮ বছর শিক্ষকতা করে আসায় তিনি ওই মোটা অংকের টাকা দিতে অস্বীকার করেন। এসময় অধ্যক্ষ তাকে জানান ‘ওই পদের জন্য ২০ লাখ টাকা দেওয়ার মতো অনেক প্রার্থী রয়েছে’। এছাড়া একই কলেজে একইভাবে ২০১৫ সালে ডিগ্রি শাখায় সৃষ্ট প্রভাষক (দর্শন) পদে যোগদান করেন শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার যমুনা খাতুন। যোগদানের পর থেকে তিনিও দীর্ঘ ৫ বছর যাবত বিনাবেতনে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু ডিগ্রি পর্যায়ে এমপিও ঘোষণার পর পরই কলেজ অধ্যক্ষ তার কাছেও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। তিনি পারিবারিক অবস্থার কারণে ওই টাকা দিতে অস্বীকার করেন। ফলে তাকে বাদ দিয়ে ফুলপুর উপজেলার কাতুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত আফরোজা আক্তার নামে এক প্রার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়ে দেন। প্রভাষক মুহাম্মদ রাহুলের স্থলে, ময়মনসিংহ মেট্রোপলিটন মডেল স্কুলে কর্মরত আবু হানিফকে এবং প্রভাষক যমুনা খাতুনের স্থলে আফরোজা আক্তারকে ‘ব্যাকডেটে’ ভূয়া কাগজপত্রে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে দেখিয়ে ময়মনসিংহ অঞ্চলের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক বরাবর এমপিও এর আবেদন পাঠিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আবু হানিফ ও আফরোজা আক্তার একদিনও ওই কলেজে ক্লাশ নেননি। তদুপরি তাদের দু’জনেরই শিক্ষক নিবন্ধন জাল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে প্রকাশ, অধ্যক্ষের স্ত্রী মাহমুদা সিদ্দিকার স্নাতক ও শিক্ষক নিবন্ধন সনদসহ আরও একাধিক শিক্ষককে চাকুরী দেয়া হয়েছে জাল সনদে। স্থানীয় ডাকাবর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরী করেও আসমাউল আলিয়া প্রভাষক (বাংলা), সিলেটের একটি হাইস্কুলে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত আব্দুর রহিম প্রভাষক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ও ঝিনাইগাতী উপজেলা বিআরডিবিতে প্রায় ৫ বছর যাবত চাকরিরত মুজিবুর রহমান প্রভাষক (অর্থনীতি) হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন। তারাসহ অচেনা শিক্ষক আবু হানিফ ও আসমাউল আলিয়া কলেজে একদিন ক্লাশ না নিলেও ইতোমধ্যে তুলে নিয়েছেন এমপিওভূক্তির প্রথম দফার বেতন-ভাতাদি বাবদ প্রায় ৩ লাখ টাকা করে। এদিকে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান ছাত্রজীবনে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী থেকে আরবী (এ্যারাবিক) বিষয়ে মাস্টার্স করলেও ওই কলেজে নেই নিজের আরবী পাঠ্য বিষয়। কলেজে রয়েছে ইসলামিক স্টাডিজ- যা নিয়োগবিধির পরিপন্থী। তিনি ওই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পরবর্তীতে একদিন ক্লাশ না করেও বিতর্কিত দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজ এবং এক পর্যায়ে ইংরেজি সনদও হাসিল করেছেন। অন্যদিকে আর্থিক দূরাবস্থায় অনেকটা শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করলেও অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নিয়োগ বাণিজ্য ও জাল-জালিয়াতির সুবাদে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ও জেলা শহরে একাধিক বাসা-বাড়িসহ রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন- এমন অভিযোগও রয়েছে। কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ে টানা ৮ বছর যাবত কর্মরত থাকার পরও এমপিও তালিকায় নিজের নাম না পাঠানো প্রসঙ্গে ইংরেজী প্রভাষক পি.আর মুহম্মদ রাহুল বলেন, দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় এমপিও তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি গভর্নিং বর্ডির সভাপতিকে জানানোর পরও তিনি ওই বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেননি। দর্শন প্রভাষক যমুনা খাতুন বলেন, জাল-জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যে অভ্যস্ত অধ্যক্ষের দাবিকৃত টাকা না পেয়েই এখন তাদের জীবনকে চরম অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। এদিকে অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্নীতি প্রসঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের পাশাপাশি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দাতা সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশাও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষের সীমাহীন অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি এলাকায় এখন ‘ওপেন সিক্রেট’। একদিকে তিনি অভিযোগকারী নিয়মিত শিক্ষকদের বাদ দিয়ে, প্রতিষ্ঠানে একদিনও ক্লাশ নেয়নি এমন অচেনাদের নাম এমপিও তালিকায় পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে তার স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজনের জাল সনদে চাকরির সুযোগ করে দিয়েছেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না, তার