গরু চুরির মামলায় নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

0
590
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির মামলায় নির্যাতনের শিকার মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত।

গত শুক্রবার কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। পরে তাঁদের কয়েকটি গ্রাম ঘুরিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় মা-মেয়েকে মারধর করেন।

গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের পর কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিন নারীর জামিন হয়েছে। সোমবার দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেব এই জামিন দেন। অন্য দুজনের জামিন নামঞ্জুর করা হয়।

চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক প্রথম আলোকে বলেন, রোববার সন্ধ্যায় পুরো ঘটনাটি আদালতের নজরে এনে আসামিদের জামিন প্রার্থনা করা হয়। এ সময় বিচারক রাজিব কুমার দেব আসামিদের মধ্যে দুই নারীকে আদালতে উপস্থিত করতে নির্দেশ দেন। সোমবার সকালে পুলিশ পারভীন আকতার ও সেলিনা আকতারকে আদালতে উপস্থিত করলে তাঁদের উপস্থিতিতে শুনানি শুরু হয়। একপর্যায়ে আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে তিন নারীর জামিন মঞ্জুর করেন।

গত শুক্রবার চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের একটি গ্রামে গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে রশিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আরও তিনজন। পরে তাঁদের কয়েকটি গ্রাম ঘুরিয়ে হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম দ্বিতীয় দফায় মা-মেয়েকে মারধর করেন। পরে তাঁদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে চেয়ারম্যান পুলিশ ডেকে তাঁদের হস্তান্তর করেন। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা করান।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ঘটনার দিন বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে জেনেছি। আমি তখন গরুচোরদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। এতে উপ-সচিব শ্রাবস্তী রায়কে প্রধান করা হয়েছে। এই কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন চকরিয়ার এসিল্যান্ড ও একজন হারবাং ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসারকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিষয়টি আমি নিজেই খতিয়ে দেখছি। অভিযুক্তরা যদি মনে করে তাদের অপমান বা হয়রানি করা হয়েছে তাহলে তাদের অভিযোগও আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে করতে চেয়ে ব্যর্থ হয়ে চোরের অপবাদে পরিবারটিকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নিপীড়ন করেছে একদল দুর্বৃত্ত।