ঈদের আলোচিত ‘ভিকটিম’ নাটকের বিরুদ্ধে গল্প নকলের অভিযোগ

0
206

ঈদুল আযহায় যেসব নাটক প্রচারিত হয়েছে সে সবের মধ্যে সর্বাধিক আলোচিত নাটক হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে ‘ভিকটিম’। তবে, প্রশংসার জোয়ারে ভাসতে থাকা এ নাটকের গল্প নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।

বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা নির্মাতা আশফাক নিপুন। ব্যতিক্রমী গল্প, অসাধারণ নির্মাণ কত চাওয়া তার কাছে। দর্শকের চাহিদা পূরণে তিনিও চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। একের পর এক সময়োপযোগী গল্প নির্ভর নাটক দিয়ে মাতিয়ে রাখছেন নাট্য ভুবন। এবার ঈদে আলোচিত কিছু নাটকের মধ্য আশফাক নিপুনের ‘ভিকটিম’ টেলিফিল্মটি ছিল অন্যতম।

অনেকেরই ধারণা, এই টেলিফিল্মটি দেশের টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিকে আবার গল্প নির্ভর নাটক নির্মাণে উৎসাহিত করবে। জনপ্রিয় এ নাট্যনির্মাতার প্রতি দর্শকদের যে আস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে তিনি আরো অসাধারণ সব কাজ উপহার দেবেন।

সম্প্রতি আলোচনায় আসা ভিকটিম নাটকটিতে অভিনয় করেছেন অপি করিম, আফরান নিশো ও সাফা কবীর। এমন সুন্দর গল্প, অসাধারণ নির্মাণ আর দুর্দান্ত অভিনয়ের সমন্বয়ে গড়া নাটক বহুদিন ধরে দেখেনি ছোট পর্দার দর্শকরা। কী অসাধারণ উপস্থাপনে দর্শক ধরে রেখেছেন পরিচালক। তবে, নাটকটির গল্প ও চিত্রনাট্য পরিচালক আশফাক নিপুনের নিজের বলেই দাবি করা হয়েছে। 

তবে, নাটকটি যখন প্রশংসায় ভাসছে ঠিক তখনই এর গল্প আর কাহিনী নিয়ে উঠেছে অভিযোগ।সমালোচকদের দাবি ‘ভিকটিম’ নাটকের গল্পটি আশফাক নিপুনের মৌলিক গল্প নয়। গল্পটি তিনি নকল করেছেন অথবা অন্যকোনো গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন।

অভিযোগ উঠেছে প্রশংসিত এই টেলিফিল্মটি নাকি প্রায় সাড়ে তিন দশক আগে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি বিদেশি চলচ্চিত্রের অবলম্বনে তৈরি। কেউ কেউ আবার একটু রয়েসয়ে বলতে লাগল, নকল নয় ঠিক, তবে মূল থিমটা অনুপ্রাণিত। এভাবেই, এতদিন যে টেলিফিল্মটি নিয়ে সবাই হৈ হৈ করেছে, সেটির নামের পাশে কেমন একটা কালিমা লেপ্টে গেল। এ যেন পরিচিত সেই প্রবাদের কথাই মনে করিয়ে দেয়, ‘চাঁদেরও কলঙ্ক থাকে’, ঠিক তেমনই!

শংকরের কাহিনী অবলম্বনে মিঠুন চক্রবর্তী এবং মুনমুন সেন অভিনীত বাসু চ্যাটার্জী পরিচালিত ‘শিশা’ সিনেমা থেকে নাকি ‘ভিকটিম’ গল্পটি নকল করা হয়েছে! ১৯৮৬ সালে ‘শিশা’ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এ সিনেমার কাহিনীতেও যৌন হয়রানি নিয়ে গল্পের পথাচলা। 

সমালোচকদের দৃষ্টিতে ‘ভিকটিম’ ও ‘শিশা’ দুই গল্পে কি কি মিল আছে তা একটু দেখা যাক 

১.দুই জায়গাতেই অফিসের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি কিংবা শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে।

২.দুই জায়গাতেই অভিযোগটি মিথ্যা হবার সম্ভাবনা রয়েছে, যার পেছনে একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে অভিযুক্তের প্রতি অভিযোগকারীর ব্যক্তিগত আক্রোশ, কিংবা অন্য কারো দ্বারা প্ররোচিত হওয়া।

৩.দুই জায়গাতেই অভিযুক্তের স্ত্রীর মনের ওপর দিয়ে বিশাল ঝড় বয়ে যায়। এতদিনের চেনা মানুষটির ব্যাপারে এইসব শোনার পর তারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। একদিকে স্বামীর প্রতি বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে দুলতে থাকে, আবার নিজেরা নারী হওয়ার দরুণ আরেকজন নারীকে পুরোপুরি অবিশ্বাসও করতে পারে না। দুই জায়গাতেই একজন উকিল বন্ধুকে দেখা যায় যারা কিছুটা পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা পোষণ করে, এবং দাবি করে অভিযুক্তকে ফাঁসানো হয়ে থাকতে পারে।

৪.দুই জায়গাতেই অভিযুক্তের আশেপাশের মানুষজন তাদের নিয়ে আলোচনা করতে থাকে, অভিযুক্তের জীবনকে বিষিয়ে দিতে চায়। দুই জায়গাতেই অভিযোগ খারিজ হয়ে যায় পর্যাপ্ত যুক্তি-প্রমাণের অভাবে। দুই জায়গাতেই অনেকে উল্টো অভিযোগকারীর দিকে আঙ্গুল তোলে। 

কিন্তু, এবার দেখা যাক অমিল কোথায় কোথায়

১. ‘শীশা’ এবং ‘ভিকটিম’ এর উদ্দেশ্যের মাঝেই সবচেয়ে বড় অমিল।

২. ‘শীশা’ চলচ্চিত্রে শেষ পর্যন্ত এই বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে যে একজন অপরাধী যতই সমাজের কাছে নির্দোষ হিসেবে প্রমাণিত হোক না কেন, নিজের মনের আয়না তাকে নিজের সঠিক প্রতিবিম্বই দেখায়। ফলে নিজের বিবেকের তাড়না থেকে তার পক্ষে বাঁচা অসম্ভব। সারাজীবন তাকে অনুতাপের অনলে জ্বলেপুড়ে ছারখার হতে হয়।

৩. অন্যদিকে ‘ভিকটিম’ টেলিফিল্মটির শেষটা তো একেবারেই ওপেন এন্ডেড।

৪. অভিযুক্ত আসলেই দোষী কি নির্দোষ, তা নির্মাতা নিজে থেকে সরাসরি দেখাননি। তিনি বিষয়টি দর্শকের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। বরং জোর দিয়েছেন গোটা ঘটনায় ভুক্তভোগী কে, তার ওপর। ফলে আমরা দেখতে পাই, অভিযুক্তের স্ত্রী সবসময়ই ভুক্তভোগী, তা তার স্বামী দোষীই হোক বা নির্দোষ, অভিযোগকারীর দাবি সত্যিই হোক বা মিথ্যা।