রংপুরে পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় স্ত্রীকে মারধর, ব্যাংক কর্মকর্তা কারাগারে ।মোঃ আতাউর রহমান রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

0
19

পরকীয়ায় বাধা ও যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ব্যাংক কর্মকতা মামুনুর রহমান মামুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. দেলোয়ার হোসেন এ আদেশ দেন।অভিযুক্ত মামুনুর রহমান মামুন রংপুর নগরীর ধাপ কাকলী লেন এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত।বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রইচ উদ্দিন বাদশা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।ভুক্তভোগী নারী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার পান্থপাড়া গ্রামের মনসুর আলী মণ্ডলের মেয়ে মাফরুহা আখতারের সঙ্গে রংপুর নগরীর ধাপ কাকলী এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে মামুনুর রহমান মামুনের বিয়ে হয় ১১ বছর আগে। মাফরুহা রুপালী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। অন্যদিকে মামুন বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। দুজনই ধাপ কাকলী লেনের বাসায় থাকতেন। তাদের আড়াই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই মাফরুহার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাদের বাসার তৃতীয় তলা নির্মাণের জন্য ২০ লাখ টাকা যৌতুক হিসেবে দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় প্রায়ই মাফরুহাকে নির্যাতন করতেন মামুন।এছাড়াও বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর কার্যালয়ের এক কর্মকর্তার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন মামুন। প্রায় প্রতিদিনই মোবাইলে কথা বলা, ম্যাসেজ ও ছবি আদান-প্রদানসহ তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড হাতেনাতে ধরে ফেলায় আবারও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয় মাফরুহার ওপর।বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ২০ মে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন মাফরুহা। এতে আবারও ক্ষিপ্ত হয়ে মাফরুহাকে অমানুষিক নির্যাতন করেন স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এর পরদিন রাত ১১টার দিকে মারধর করে মাফরুহাকে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসা নিয়ে গত ১ জুলাই রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন মাফরুহা।মামলা দায়েরের পর অভিযুক্ত মামুনুর রহমান মামুন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন নেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার আদালতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় জামিন আবেদন জানান তিনি। শুনানি শেষে বিচারক তার আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারের পাঠানোর আদেশ দেন।