বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক এমপি অধ্যাপক মু.আলীর মৃত্যু, শোকে ভাসছে সোশ্যাল মিডিয়া

0
15

ওসমান আল-হুমাম
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, কক্সবাজার সরকারি কলেজের সাবেক প্রফেসর, টেকনাফ, হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (১৯৯৬-২০০১), বর্তমান টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা,বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ
আলহাজ্ব অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী গতকাল শুক্রবার (১৩-নভেম্বর-২০) ভোররাত ৩.টার ৫৫ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গতকাল শুক্রবার (১৩ নভেম্বর) বাদে আসর হ্নীলা দরগাহ সড়ক ও জনপদ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
এই মহান জাতীয় নেতাকে গার্ডঅব অনার প্রদান করা হয়।
বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ফুলের ডেইলের মরহুম হাজী আমির হোছনের পুত্র। তিনি ১৯৪৪ সালে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নদী বিধৌত নয়নাভিরাম ফুলের গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ৩ ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। সদ্যপ্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী ছিলেন, বাংলা সাহিত্যের একজন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ, সংগঠক ও মর্যাদাবান পার্লামেন্ট সদস্য। করোনাকালীন এই দুর্দিনেও তাঁর নামাজে জানাযায় জনতার বিশাল উপস্থিতি তাঁর মর্যাদার পরিচায়ক। জাতীয় পর্যায়ের একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন। কক্সবাজারে জনবান্ধব নেতা হিসেবে জনশ্রুতি আছে বেশ। তিনি অত্যন্ত ভদ্র অমায়িক মিষ্টভাষী ছিলেন। অহিংস রাজনীতির কবর রচনা করে উদার,দরদী রাজনীতির স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন।
তিনি একজন অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে খ্যাত ছিলেন, পরোপকারী, অতিথিপরায়ণ, হৃদয়বান, সুপরামর্শক, অভিভাবকতুল্য ব্যক্তি ছিলেন। আলেম উলামাদের সাথে তার সম্পর্ক ছিল গভীর। বিশেষ করে দক্ষিণ চট্টলার সিংহ পুরুষ পীরে কামেল আল্লামা শাহ ইসহাক ছদর সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহির বাইয়াত প্রাপ্ত ছিলেন। আলেম-ওলামাদেরকে পরম মমতায় কাছে টানতেন।

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ সারির রাজনীতিবিদ, আলেম-ওলামা, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক সিরাজুল মোস্তফা ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কক্সবাজার জেলা শাখাও পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুম অধ্যাপকের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকও ভাসছে শোকের নদীতে। সেখানে থেকে কয়েকটি আলেম-উলামার লেখক বুদ্ধিজীবীদের অনুরক্ত ভক্তদের ফেসবুক স্ট্যাটাস তুলে ধরা হলো।

জানি আর দেখাও হবে না
মুজাহিদ ওসমান আল-হুমাম, আলেম, সংগঠক, লেখক।
কক্সবাজার জেলার বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ কক্সবাজার জেলার অভিভাবক অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নামের শুরুতে মরহুম লিখতে হবে। এই মনিষী গতকাল ইন্তেকাল করেছেন পবিত্র জুমার দিনে কক্সবাজারের একটি হাসপাতালে।
গত বছর কক্সবাজারে মাদক নির্মূল শীর্ষক একটি সেমিনারে কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিল। অসম্ভব বিনয়ী এবং আন্তরিক মানুষ। চমৎকার ভাবে কক্সবাজার থেকে মাদক নির্মূলে রূপরেখা নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন সেদিন। একজন উঁচুমাপের নেতা হওয়া সত্ত্বেও আহংকারের ছিটেফোঁটাও ছিল না তার ভেতরে। সেই দিন অধ্যাপক মু. আলীর ধর্মীয় গুরু দক্ষিণ চট্টলার সিংহ পুরুষ পীরে কামেল আল্লামা শাহ ইসহাক সদর রাহ.’র জীবনীগ্রন্থ নিয়ে অনেক কথা জিজ্ঞেস করার ছিল। সেদিন সময় ছিলনা। বললেন আরেকদিন সময় নিয়ে হ্নীলা আসেন কথা হবে। জানি, আর কখনও জিজ্ঞেস করা হবে না। দেখাও হবে না। তিনি আমার নিকটতম ফুফা ছিলেন। আল্লাহ আমাদের এই অগ্রজকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

স্যার অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী : ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী ছিলেন।
মাওলানা আফসার উদ্দিন কাসেমী চৌধুরী, আলেম, দাঈ, ইসলামী রাজনীতিবিদ।
নির্যাতিত গণমানুষের জন্যে ব্যথিত হৃদয় লালনকারী নেতা ছিলেন। তাঁর ইনতিকালের মাধ্যমে আরেক বার সেই ধ্রুব সত্য ভেসে ওঠলো যে, মৃত্যু আমাদের খুব কাছেই অবস্থান করছে। আমরা হায়াতের খুব ছোট্ট পাথেয় নিয়ে পৃথিবীতে এসেছি। এই অমূল্য পাথেয়ের প্রতিটি অংশ যেন আমাদের আখেরাত বিনির্মাণে ব্যয় হয়, আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত যেন আল্লাহর সন্তুষ্টির কাজে ব্যয় হয়। আল্লাহ আমাদেরকে জীবনের যথাযথ মূল্যায়ন করার তাওফিক দিন। আমিন।

তাঁর রেসপেক্ট ক্ষমতা ছিল অসাধারণ
অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী, সভাপতি, উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগ, চেয়ারম্যান, উখিয়া উপজেলা পরিষদ।
গভীর শোক জানিয়ে লেখেন, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ অধ্যাপক মু. আলী চলে গেলেন। হৃদয়ের কোণে একটা ব্যথা অনুভব করছি। তার মৃত্যুতে আমাদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে। তার শূন্যতা সহজে
পূরণ করা সম্ভব নয়।

শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক হুইপ, মরহুম এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন।

রবিউল হোসেন রবি লিখেছেন
ভাবছিলাম অনেক কিছু লিখব! কিন্তু কোন ভাষাই আসেনা!এত স্মৃতি এত কথা! সর্বশেষ রাশেদের ইউপি নির্বাচনের দিন আপনার সাথে কাটানো সময় আর স্মৃতিগুলো! এত অমায়িক আর আপাদমস্তক ভদ্রলোক মানুষ হয় কি করে ওনার সাথে না মিশলে বুঝতামনা! আত্মীয়তার এই সংক্ষিপ্ত সময়ে যতবার দেখা করেছি, কথা বলেছি ওনি জীবনধর্মী উপদেশ দিয়েছেন, সৎ পরামর্শ দিয়েছেন! ওনি ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধের বীর সংগঠক, পরিচ্ছন্ন শিক্ষক,মর্যাদাসম্পন্ন রাজনীতিবিদ গণমানুষের বন্ধু! এই করুনাকালেও তাঁর অন্তিম যাত্রায় লক্ষ লক্ষ জনতার ঢল তাঁর কর্মের পরিচায়ক!

আমরা হারালাম এক প্রিয় অভিভাবক। দেশ হারালো এক কীর্তিমান কিংবদন্তীকে হারালো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ শোক কিভাবে সইবে তার পরিবার, তার স্বজন, তার অসংখ্য গুণগ্রাহী! হে আরহামুর রাহিমিন, তাকে ক্ষমা করুন, তার উপর রহমত নাযিল করুন, তার নেক কাজগুলো কবুল করুন, জান্নাতে উঁচু মর্যাদা নসিব করুন। আমিন।
কি লিখবো! কিছুই আসছে না! প্রিয় অগ্রজ রাব্বে কারীমের কাছে চলে গেছেন